আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় রক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন
দিলু দাস, শিলচর, ২৪ আগস্ট:
একটি বিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের একটি ভবন নয়—একটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শত শত শিশুর স্বপ্ন, অভিভাবকদের আশা এবং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। তাই আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিচালিত কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় (Kendriya Vidyalaya) বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের।
এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৫০০ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে বিদ্যালয়টি যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য আসামের মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে Kendriya Vidyalaya Suraksha Committee, Assam University Campus।
কমিটির সভাপতি তপন দাস ও সম্পাদক বিবেকানন্দ দেবের স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্রে ২৪ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্থানিয় বিধায়ক অর্থাৎ বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কিশোর নাথ এর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সুরক্ষা কমিটির পক্ষে এক প্রতিনিধি দল বিধায়ক কিশোর নাথ এর শিলচর তারাপুর কার্য্যালয়ে উপস্থিত হয়ে উনার সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে সস্মারক পত্র প্রদান করা হয়।
Oplus_19005440Oplus_19005472
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৫০০ ছাত্রছাত্রীকে মানসম্মত শিক্ষা দিয়ে আসছে। তাঁদের অনেকেই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের সন্তান। স্বল্প খরচে ভালো শিক্ষার সুযোগ পাওয়ায় এই বিদ্যালয়টি বহু পরিবারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠনের মধ্যে থাকা ১০ বছরের MoU-এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ছয় মাসের বর্ধিত সময় দেওয়া হলেও সেটিও আগামী অক্টোবর মাসে শেষ হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আর্থিক সমস্যার কারণে নতুন করে MoU চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে বলে কমিটির আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অবস্থায় বিদ্যালয়টি যদি সত্যিই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়বে শিশুদের উপর। শিক্ষা বর্ষের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে। নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তি, পড়াশোনার পরিবেশের পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত আর্থিক চাপ—সব মিলিয়ে বহু পরিবারের সামনে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে যেসব পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়, তাঁদের কাছে সন্তানদের অন্যত্র ভালো বিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ সবসময় সহজ নয়। তাই বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বা আর্থিক সমস্যা হিসেবে না দেখে শিশুদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে।
সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কমিটির পক্ষ থেকে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠনের সঙ্গে জরুরি আলোচনার পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় যদি বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার বহন করতে না পারে, তাহলে বিদ্যালয়টিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে KVS-এর সরাসরি পরিচালনায় একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থায়িত বিদ্যালয় হিসেবে চালু রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের বক্তব্য, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চাই না। প্রশাসনিক বা আর্থিক সমস্যার সমাধান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ করুক, কিন্তু তার বোঝা যেন শিশুদের কাঁধে না পড়ে।”
তাঁদের আবেদন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন এবং শিক্ষা মন্ত্রক সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়টি চালু রাখার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করুন।
কারণ, একটি বিদ্যালয় বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শত শত শিশুর স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের পথও অনিশ্চিত হয়ে পড়া।
তাই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের কাছে রাজনীতি ও প্রশাসনিক জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অভিভাবকরা।