21.1 C
New York

বিজেপির টিকিট না পেয়ে সুপ্রিয়া পালের প্রশ্ন, ‘আপনারা কি চান, আমি নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করি ?’

Published:

বিজেপির টিকিট না পেয়ে সুপ্রিয়া পালের প্রশ্ন, ‘আপনারা কি চান, আমি নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করি?’

শিলচর: আসন্ন শিলচর পৌর নিগম নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী বাছাইয়ের পর দলের অন্দরে যেমন নানা আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই টিকিট-বঞ্চিতদের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী ও সমাজকর্মী সুপ্রিয়া পাল-এর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে।

দলীয় টিকিট না পাওয়ার পর সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা না করে এবার এলাকার মানুষের কাছেই মতামত চেয়েছেন সুপ্রিয়া পাল। ফেসবুক পোস্টে তিনি শিলচরের সাধারণ মানুষ ও নিজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখেছেন—“আপনারা কি চান, আমি নির্দল প্রার্থী হিসেবে আপনাদের জন্য লড়াই করি?”

এই প্রশ্নকে ঘিরেই এখন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন সক্রিয় কর্মী যখন দলীয় প্রতীকের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি জনমত চাইছেন, তখন তা নিছক আবেগের প্রকাশ, নাকি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত—সেই প্রশ্নও উঠছে।

তবে সুপ্রিয়া পাল তাঁর পোস্টে এখনই নির্দল প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। বরং স্পষ্ট করেছেন, মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও মতামতই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি জানতে চাইছেন, সাধারণ মানুষ তাঁকে কীভাবে দেখতে চান এবং আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক পথ কোন দিকে হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পোস্টের তাৎপর্য এখানেই যে, দলীয় টিকিট না পাওয়ার পর অনেকেই নীরব থাকেন কিংবা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেন। কিন্তু সুপ্রিম পাল সরাসরি জনতার দরবারে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে মতামত চেয়েছেন। ফলে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থন কতটা রয়েছে, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

বিশেষ করে তিনি যদি শেষ পর্যন্ত নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি তাঁর উপস্থিতি ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হবে। অন্যদিকে, মানুষের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, সেটিও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এখন মূল প্রশ্ন একটাই—৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ কি সুপ্রিয়া পালকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান? সেই উত্তরই সম্ভবত ঠিক করে দিতে পারে তাঁর আগামী রাজনৈতিক পথচলার দিক।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img