১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেসের টিকিটের অন্যতম দাবিদার জয়া বর্ধন
তৃণমূল থেকে জেলা নেতৃত্ব—অমিত বর্ধনের চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিসরেও বর্ধন পরিবারের পরিচিতি

দিলু দাস, শিলচর, ৮ সেপ্টেম্বর :: শিলচর পৌর নিগম নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্ক স্পষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যেই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেসের টিকিট প্রত্যাশী হিসেবে জয়া বর্ধনের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। শুধু প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নয়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগকে সামনে রেখে তাঁর প্রার্থীপদ নিয়ে এলাকায়ও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
জয়া বর্ধনের স্বামী অমিত বর্ধন (কাবুল)-এর কংগ্রেসি রাজনৈতিক পথচলা শুরু ১৯৮৬ সালে। তারাপুর জিপি মণ্ডলের জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে শুরু করে পরবর্তীতে ব্লক সেক্রেটারি, জেলা সেক্রেটারি এবং বর্তমানে জেলা কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি পর্যন্ত পৌঁছেছেন তিনি। অর্থাৎ তৃণমূল সংগঠন থেকে জেলা নেতৃত্ব—দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কয়েক দশকের।
শুধু দলীয় সংগঠনেই নয়, নির্বাচনী রাজনীতিতেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে কাঠিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেছেন অমিত বর্ধন। বদরপুর ও কাঠিগড়া এলাকায় দুর্বল হয়ে পড়া কংগ্রেস সংগঠনকে ফের সক্রিয় করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার কথা দলীয় মহলে আলোচিত।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য। অমিত বর্ধনের বাবা প্রয়াত অনিল কুমার বর্ধন ছিলেন শহরের পরিচিত কংগ্রেসি ব্যক্তিত্ব। ফলে বর্ধন পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন নয়; বরং কয়েক দশকের পুরনো।
তবে জয়া বর্ধনের সম্ভাব্য প্রার্থী পদের আলোচনাকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও বর্ধন পরিবারের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগে পরিবারের অংশগ্রহণের কারণে এলাকায় তাঁদের একটি পৃথক পরিচিতি ও দীর্ঘদিনের জনসংযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয়া বর্ধনের সম্ভাব্য প্রার্থীপদকে তিনটি দিক থেকে দেখা হচ্ছে—দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক কংগ্রেসি ঐতিহ্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব কাকে প্রার্থী করে এবং ভোটাররা সেই রাজনৈতিক পরিচিতিকে কতটা গ্রহণ করেন, সেটাই হবে আসল পরীক্ষা।
১৪ নম্বর ওয়ার্ডে তাই এখন প্রশ্ন শুধু ‘কে টিকিট পাবেন’ তা নয়—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শিকড় ও সামাজিক পরিচিতি কি জয়া বর্ধনের পক্ষে নির্বাচনী শক্তিতে পরিণত হবে?

