- শ্রীভূমিতে সীমান্তরক্ষীদের হাতে রাখি বন্ধন—বিএসএফ জওয়ানদের সম্মানে উৎসবমুখর অনুষ্ঠান
পাঞ্চজন্য রায়, শ্রীভূমি, ২৮ আগস্ট : ভারতের ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সুতারকান্দিতে পবিত্র রাখি বন্ধন উপলক্ষ্যে গতকাল খুশি স্মৃতি সংস্থা আয়োজিত বিশেষ রাখি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কঠোর সীমান্ত পরিবেশে এই উদযাপন মূলত সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও মানবিক স্নেহ প্রকাশের উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়েছিল।

অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে প্রদীপ প্রজ্বলন করে শুরু হয়। এরপর সংস্থার সদস্যরা বিজয় তিলক, ফুল ছিটিয়ে এবং আন্তরিক অভিবাদনের মাধ্যমে সুতারকান্দি বিএসএফের ১৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের বরণ করেন। কোম্পানি কমান্ডার উমেশ কুমারকে বিশেষভাবে উত্তরীয় গায়ে পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংস্থার পক্ষ থেকে অমৃতলাল বণিক রাখি বন্ধনের স্মারক হিসেবে তুলে দেন।
খুশি স্মৃতি সংস্থার মহিলা সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে বিএসএফ জওয়ানদের কাঁধে রাখি পরিয়ে, তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও নিরাপদ কর্মজীবনের জন্য প্রার্থনা করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মঞ্জুশ্রী চক্রবর্তী, উমা পাল, বর্ণিতা সেন, অর্পিতা রায়, শ্রাবণী পাল, রুবি মল্লিক, মীনাক্ষী দাস, রুবি দাস, তনুশ্রী রায়, সুতপা সেন, রিমা দেব ও রাজশ্রী চক্রবর্তী প্রমুখ। এছাড়া সংস্থার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৌমিত্র পাল, অসিত দত্ত, মানবেন্দ্র ভট্টাচার্য ও অরূপ রায়।
সাংস্কৃতিক অংশে ‘রাখি বন্ধন’ গান, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হয়। সংগীত পরিবেশন করেন মৌসমী দাস বণিক, মঞ্জুরি চৌধুরী, শ্যামা দাস ধর, জিমি ধর ও সন্ধ্যা কর। নৃত্য পরিবেশনে ছিলেন আরুহি ধর; ভাইয়ের ভূমিকায় তুর্জ ধর ও সায়নিক দে; ভারত মাতার ভূমিকায় উপস্থিত ছিলেন ভাগ্যশ্রী চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানটি হৃদ্যভাবে চলা সংগীত-নৃত্যের মাধ্যমে সেতুবন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও দেশপ্রেমের বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরে।
খুশি স্মৃতি সংস্থার সম্পাদক জানিয়েছেন, সীমান্তরক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাদের ত্যাগকে সম্মান জানানোই এই আয়োজনের মূল ভাবনা। তিনি বলেন, “কঠোর সীমান্ত জীবনে ছোট্ট এই অনুষ্ঠানটুকুও মুহূর্তের জন্য ভালোবাসা, উৎসব ও মানবিক সমর্থনের আবহ তৈরি করে—এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
উল্লেখ্য, সুতারকান্দি সীমান্তের কঠোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেও এধরনের সামাজিক উদ্যোগ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মনোবল বাড়ায় এবং সীমান্তবর্তী জনগণের ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

