জন্মদিনের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের ছায়ায়, প্রেমিকার চোখের সামনেই জাটিঙ্গা নদীর স্রোতে তলিয়ে গেলেন নিতাই
যুব দর্পণ প্রতিবেদন | বড়খলা, ৩০ আগস্ট:
জন্মদিন—একজন মানুষের জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন। প্রিয় মানুষের সঙ্গে সেই দিনটিকে একটু বিশেষ করে তুলতে চেয়েছিলেন শিলচরের তরুণ নিতাই দাস (ভিকি)। কিন্তু কে জানত, আনন্দের সেই মুহূর্তই তাঁর জীবনের শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে!
শনিবার জন্মদিন উপলক্ষে প্রেমিকার সঙ্গে দেবী নালা ও বান্দরখাল সংলগ্ন জাটিঙ্গা নদীর তীরে গিয়েছিলেন নিতাই। কাছের মানুষটির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া—সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু নদীর জলে নামার পর মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, জলে নামার পর হঠাৎ পা পিছলে গভীর জলে পড়ে যান নিতাই। বর্ষার জলে তখন জাটিঙ্গা নদী ছিল ভয়ংকর রূপে। প্রবল স্রোত তাঁকে মুহূর্তের মধ্যেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়, প্রিয় মানুষটির চোখের সামনেই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা। অসহায় অবস্থায় প্রেমিকার চিৎকার, স্থানীয়দের ছুটে আসা—সবকিছুর মধ্যেও উত্তাল স্রোতের কাছে যেন অসহায় হয়ে পড়ে সবাই। চোখের সামনে একজন মানুষকে নদীর স্রোতে হারিয়ে যেতে দেখার সেই মুহূর্ত কতটা ভয়াবহ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
খবর পেয়ে বড়খলা থানার পুলিশ ও এসডিআরএফের বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শনিবার বিকেল থেকে রবিবার সারাদিন নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিতাইয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি।
একদিকে পরিবারের মানুষজনের অপেক্ষা—হয়তো কোনোভাবে ফিরে আসবেন তাঁদের প্রিয় নিতাই। অন্যদিকে সেই প্রেমিকা, যিনি কয়েক ঘণ্টা আগেও জন্মদিনের আনন্দে তাঁর পাশে ছিলেন, এখন তাকিয়ে আছেন সেই নদীর দিকেই।
একটি জন্মদিন, কিছু সুন্দর মুহূর্ত আর প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো সময়—সবকিছুই মুহূর্তে পরিণত হলো এক অপূরণীয় বেদনায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—বর্ষাকালে নদী, নালা বা পাহাড়ি জলধারায় প্রবল স্রোতের মধ্যে নামা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। আনন্দের মুহূর্ত যেন কখনও অসতর্কতার কারণে জীবনের সবচেয়ে বড় শোকে পরিণত না হয়।

