৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে এবার ‘নেতা নয়, ব্যক্তি’—নতুন মুখের খোঁজে লিংক রোডের মানুষ
নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে পেশায় ব্যবসায়ী টুটন ধর-এর নাম। রাজনৈতিক দলের টিকিটের প্রত্যাশী হিসেবে নয়, বরং একজন নির্দল প্রার্থী হিসেবে তাঁকে দেখতে চাইছেন এলাকার কিছু সমাজসচেতন মানুষ।
দিলু দাস, শিলচর , ২৭ আগস্ট:
আসন্ন শিলচর পৌর নিগম নির্বাচনকে ঘিরে নিউ শিলচরের অন্যতম জনবহুল এলাকা লিংক রোডের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল দশা, জল জমার সমস্যা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন এলাকার বাসিন্দারা। ফলে এবার শুধুমাত্র দলীয় পরিচয় নয়, এলাকার সমস্যার সমাধানে বাস্তবে কাজ করতে পারবেন—এমন একজন জনপ্রতিনিধির খোঁজে রয়েছেন এলাকার একাংশের সচেতন নাগরিক।
বিগত নির্বাচনে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নির্দল প্রার্থীকে জয়ী করার নজির রয়েছে এই এলাকায়। একসময়ের কংগ্রেসের প্রতাপশালী নেতা অমিতাভ সেন ওরফে টুবলু সেনকে পরাজিত করে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন রতন সরকার। পরবর্তীতে রতন সরকার এবং তাঁর স্ত্রী—দু’জনেই দু’বার করে পৌর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় তাঁদের জনসমর্থনও রয়েছে বলে স্থানীয় মহলের দাবি। পাশাপাশি রতন সরকার এলাকার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত প্রায় দুই বছর ধরে লিংক রোডের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে তেমন জোরালো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। বিশেষ করে রাস্তা, জল জমা এবং পানীয় জলের মতো দৈনন্দিন সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন বিজেপি মণ্ডল সভাপতি দুলাল দাস এবং মহিলা নেত্রী তথা সমাজকর্মী সোহেলী দেব-এর নামও। তবে তাঁদের নিয়েও এলাকার একাংশের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে—দলীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও নিজেদের এলাকার সমস্যাগুলির সমাধানে কতটা কার্যকর ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে পেশায় ব্যবসায়ী টুটন ধর-এর নাম। রাজনৈতিক দলের টিকিটের প্রত্যাশী হিসেবে নয়, বরং একজন নির্দল প্রার্থী হিসেবে তাঁকে দেখতে চাইছেন এলাকার কিছু সমাজসচেতন মানুষ।
-

Oplus_16908288
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, টুটন ধর গত কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিংক রোডের রাস্তা, জল জমা ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যাগুলি নিয়মিত তুলে ধরেছেন। এলাকার সমস্যাগুলি নিয়ে নির্ভীকভাবে কথা বলার পাশাপাশি তাঁর মৃদুভাষী ব্যবহার এবং বিভিন্ন মহলের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্কও তাঁকে অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা করে তুলেছে।
কম্পিউটার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে শহরের বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। ফলে প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে এলাকার সমস্যাগুলি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই যোগাযোগ কাজে লাগতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁর সমর্থকরা।
তবে টুটন ধর আদৌ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, কিংবা কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থন বা টিকিট নেবেন কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু তাঁকে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার—লিংক রোডের ভোটারদের একাংশ এবার দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং কাজ করার মানসিকতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন।
রাস্তা, পানীয় জল ও জলাবদ্ধতার মতো মৌলিক নাগরিক সমস্যা যখন বছরের পর বছর মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এবারের নির্বাচনে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারদের ভাবনায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
এবার কি ‘নেতা’ নয়, এলাকার সমস্যার পাশে থাকা একজন ‘ব্যক্তি’কেই বেছে নেবে লিংক রোড?—আসন্ন পৌর নিগম নির্বাচনের আগে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রশ্নই এখন ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উপরের প্রতিবেদনটি স্থানীয় মহলে প্রচলিত আলোচনা, অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক চর্চার ভিত্তিতে লেখা; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা যেতে পারে।


