৩ অক্টোবর শিলচর পৌর নিগম নির্বাচন: তারিখ ঘোষণাতেই সরগরম রাজনীতি, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনার কেন্দ্রে পার্থ রায়
শাসক-বিরোধী শিবিরে তৎপরতা শুরু, প্রার্থী বাছাই ও ওয়ার্ডের সমীকরণ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
দিলু দাস, শিলচর, ২ সেপ্টেম্বর: অবশেষে শিলচর পৌর নিগম নির্বাচনের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসতেই শহরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে তৎপরতা। আগামী ৩ অক্টোবর পৌর নিগমের নির্বাচন—এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি সক্রিয়তা। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, দলীয় বৈঠক, জনসংযোগ এবং ওয়ার্ডভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পৌর নির্বাচন মূলত মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, পরিচ্ছন্নতা, আলো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের সামগ্রিক উন্নয়ন—এই বিষয়গুলিই এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ফলে শুধু দলীয় প্রতীক নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগও নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়ার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সমাজকর্মী পার্থ রায়। জিসি কলেজের ছাত্র সংসদ থেকে তাঁর সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পথচলা শুরু হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে পার্থ রায়ের বক্তব্যেও উঠে এসেছে পৌর উন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; জনগণের করের অর্থেই নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নের কাজ পরিচালিত হয়। তাঁর মতে, কাজ আদায়ের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিচয় নয়, জনপ্রতিনিধির যোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানুষের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পার্থ রায়ের এই বক্তব্যকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর সম্ভাব্য নির্বাচনী অবস্থানের একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস কাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করবে, তা দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। শাসক দল যেমন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে সামনে রাখতে চাইবে, তেমনি বিরোধী শিবিরের লক্ষ্য থাকবে স্থানীয় সমস্যা, নাগরিক দুর্ভোগ ও জনপ্রতিনিধিদের কাজের হিসাবকে নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত করা।
সব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের পৌর নিগম নির্বাচনকে ঘিরে শিলচরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দিনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, মনোনয়ন পর্ব এবং ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচার শুরু হলে শিলচরের প্রতিটি ওয়ার্ডের নিজস্ব রাজনৈতিক সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এবারের লড়াই শুধু দল বনাম দলের নয়—স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতা, নাগরিক ইস্যু এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও যে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে, নির্বাচনের ফলাফলেই তার চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখা যাবে।

