22 C
New York

নিউ হাফলংয়ে পৌঁছাল বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের পণ্যবাহী ট্রেন , লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে বিদ্যুতায়নের পথে বড় অগ্রগতি

Published:

নিউ হাফলংয়ে পৌঁছাল বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের পণ্যবাহী ট্রেন , লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে বিদ্যুতায়নের পথে বড় অগ্রগতি

 

দিলু দাস, শিলচর , ২৬ আগস্ট : :

সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে বরাক উপত্যকা ও ডিমা হাসাও। লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচলের প্রস্তুতি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এরই মধ্যে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে চালিত পণ্যবাহী ট্রেন নিউ হাফলংয়ে পৌঁছানোকে বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ১৯ আগস্ট লামডিং থেকে নিউ হাফলং পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের প্রথম ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরপর ২১ আগস্ট মান্দারডিসা থেকে নিউ হাফলং পর্যন্ত দুটি বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে চালিত প্রথম পণ্যবাহী ট্রেন সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছায়।

এরপর গত ২৪ আগস্ট লামডিং থেকে ত্রিপুরার জিরানিয়াগামী আরও একটি পণ্যবাহী ট্রেন নিউ হাফলংয়ে পৌঁছায়। ওই ট্রেনটিতে সামনে দুটি এবং পিছনে একটি বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন ছিল। রেল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে দুটি লোডেড গুডস ট্রেন বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের সাহায্যে মান্দারডিসা থেকে নিউ হাফলং পর্যন্ত সফলভাবে চালানো হয়েছে।

 

লামডিং–বদরপুরের দুর্গম পাহাড়ি রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর ক্ষেত্রে এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তবে নিউ হাফলং থেকে বদরপুরের দিকে এখনও পুরোপুরি বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। এর অন্যতম কারণ, নিউ হরাঙ্গাজাওয়ের ১১৮/১–৩ কিলোমিটার অংশে রেলপথ পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলছে। ফলে ওই অংশ দিয়ে বর্তমানে ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে।

 

রেল সূত্রের খবর, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পুনরুদ্ধার কাজ শেষ হলে সেখানে প্রথমে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের ট্রায়াল চালানো হবে। ট্রায়াল সফল হলে নিউ হাফলং থেকে বদরপুরের দিকে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পথ খুলে যেতে পারে।

 

পুরো লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে বিদ্যুতায়ন সম্পূর্ণ হলে শুধু ট্রেন চলাচলের গতি ও দক্ষতাই বাড়বে না, কমতে পারে জ্বালানি খরচও। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমানোর ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বরাক উপত্যকা, ডিমা হাসাওয়ের পাশাপাশি ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুরের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাফলং–শিলচর সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে চলায় গোটা অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থায় আগামী দিনে আরও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

এখন নজর নিউ হরাঙ্গাজাওয়ের পুনরুদ্ধার কাজ সম্পূর্ণ হওয়া এবং পরবর্তী বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের ট্রায়ালের দিকে। এই ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে লামডিং থেকে বদরপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ পাহাড়ি রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচলের স্বপ্ন আরও এক ধাপ বাস্তবের কাছাকাছি পৌঁছাবে।

Advertisement

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img