16.7 C
New York

২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রিমুখী লড়াই :: দলীয় প্রতীকের বাইরে পার্থ রায়ের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই কি বড় চ্যালেঞ্জ?

Published:

২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রিমুখী লড়াই :: দলীয় প্রতীকের বাইরে পার্থ রায়ের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই কি বড় চ্যালেঞ্জ?

দিলু দাস, 21 সেপ্টেম্বর শিলচর:

শিলচর পৌর নিগম নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী সমীকরণ। কংগ্রেসের সুস্মিতা দাস, বিজেপির পুলক দাস এবং নির্দল প্রার্থী পার্থ রায়—এই তিন প্রার্থীকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে প্রচার ও জনসংযোগ।

এই ওয়ার্ডের লড়াইয়ে এবার দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচিতি এবং এলাকার সঙ্গে প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে

বিজেপি প্রার্থী পুলক দাসকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তিনি শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্তমানে শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ডা. রাজদীপ রায়ের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতির সঙ্গে বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে। ডা. রাজদীপ রায় ২০২৬ সালে শিলচর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, এতদিন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের জন্য পুলক দাসের ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান ছিল? তাঁদের একাংশের দাবি, এলাকার রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জলসহ দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যার ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়েছিল। এই অভিযোগের বিষয়ে পুলক দাসের বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী সুস্মিতা দাসকে ঘিরেও রয়েছে আলাদা রাজনৈতিক আলোচনা। তাঁর মা রেবতি বালা দাস কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পঞ্চায়েত সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর পিতা শৈলেস দাস বিজেপিতে যোগ দেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সুস্মিতা দাস নিজেও বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পুনরায় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন—এমন দাবি তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের। তবে এই বিষয়গুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পার্থ রায় কংগ্রেসের টিকিট প্রত্যাশী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সুস্মিতা দাসকে প্রার্থী করা হলে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং কংগ্রেস কার্যালয়ে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।

কংগ্রেসের টিকিট না পাওয়ার পর পার্থ রায় নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। বর্তমানে তিনি বৃহত্তর কনকপুর এলাকায় জোরদার প্রচার ও জনসংযোগ চালাচ্ছেন

পার্থ রায়ের সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়নি। ফলে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে এবার নিজের ব্যক্তিগত পরিচিতি, সামাজিক যোগাযোগ এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সামনে রেখে ভোট চাইছেন তিনি।

২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বৃহত্তর কনকপুর এলাকার জনসংখ্যাগত গুরুত্বের কারণে এই অংশের ভোট নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এখানেই পার্থ রায়ের ব্যক্তিগত পরিচিতি তাঁর প্রচারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠছে বলে তাঁর শিবিরের দাবি।

তবে শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দিয়ে নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি। কংগ্রেস ও বিজেপি—দুই দলেরই সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে। অন্যদিকে পার্থ রায়ের সামনে রয়েছে দলীয় প্রতীক ছাড়া সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর চ্যালেঞ্জ।

ফলে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবারের লড়াইকে শুধুমাত্র কংগ্রেস বনাম বিজেপি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এখানে একদিকে রয়েছে দুই বড় দলের সাংগঠনিক শক্তি, অন্যদিকে রয়েছে দলীয় টিকিট-বঞ্চিত এক স্থানীয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি ও জনসংযোগ।

দলীয় প্রতীক, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নাকি স্থানীয় পরিচিতি—২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেন, সেটিই এখন কনকপুরের নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img