শিলচর পৌর নিগমের মহিলা সংরক্ষিত ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির টিকিটের অন্যতম দাবিদার সমাজকর্মী সুপ্রিয়া পাল
দিলু দাস, শিলচর, ২ সেপ্টেম্বর ::
শিলচর পৌর নিগম নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রার্থী বাছাই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। আগামী ৩ অক্টোবরের নির্বাচন ঘিরে বিশেষ নজর রয়েছে মহিলা সংরক্ষিত আসনগুলির দিকে। কারণ, মহিলা সংরক্ষণের উদ্দেশ্য শুধু নির্বাচনে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা নয়, বরং নারীদের সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্বে নিয়ে আসা।
এই প্রেক্ষাপটে ৩০ নম্বর মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিজেপির টিকিটের অন্যতম দাবিদার হিসেবে সমাজকর্মী সুপ্রিয়া পালের নাম আলোচনায় রয়েছে। বিজেপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি তাঁকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাংশ।
করোনা মহামারি, বন্যা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ‘শিবালয়’ এনজিওর সভানেত্রী হিসেবেও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সুপ্রিয়া পাল। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর রয়েছে একটি সামাজিক পরিচিতিও।
মহিলা সংরক্ষিত আসন নিয়ে সচেতন নাগরিকদের একাংশের মত, এমন মহিলাদেরই রাজনীতিতে সামনে আনা প্রয়োজন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে যুক্ত এবং নির্বাচিত হলে নিজের যোগ্যতা ও নেতৃত্বে ওয়ার্ডবাসীর কথা তুলে ধরতে সক্ষম।
কারণ, বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগও সামনে এসেছে যে, কোনও কোনও সংরক্ষিত আসনে মহিলা প্রার্থী নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে তাঁর পরিবর্তে পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই কার্যত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। যদিও সবক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না, তবুও মহিলা সংরক্ষণের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল করতে ‘মহিলা নির্বাচিত হবেন, নেতৃত্বও দেবেন নিজেই’—এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি।

এই জায়গায় সুপ্রিয়া পালের রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে একটি আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। প্রার্থীর দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, কাজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতাও ভোটারদের বিবেচনায় আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
৩ অক্টোবরের ভোট তাই শুধু একজন প্রার্থী নির্বাচনের লড়াই নয়; মহিলা সংরক্ষিত আসনে কেমন নেতৃত্ব চান নাগরিকরা, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

