শতবর্ষের পুরনো সড়ক সংস্কারে বাধা, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
১০ হাজারেরও বেশি মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি
শিলচর, ২২ আগস্ট: গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে শতবর্ষ আগে পূর্বপুরুষেরা যে জমি সড়ক নির্মাণের জন্য দান করেছিলেন, দীর্ঘদিন সরকারি অবহেলার পর সেই সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে একটি বহুজাতিক সংস্থা। কিন্তু সংস্কারের কাজ শুরু হতেই কিছু জমির মালিকের বাধাকে ঘিরে এলাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, নির্মীয়মাণ সড়কের কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি জেসিবি দিয়ে রাস্তার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টাও হয়েছে।
ঘটনাটি শিলচর শহরের বাইপাস সংলগ্ন পশ্চিম সিঙ্গারি থেকে নয়াগ্রাম কানেক্টিভ রোডের। স্থানীয়দের দাবি, এই রাস্তা শুধু যাতায়াতের পথ নয়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। কৃষক, মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে গবাদি পশুপালনকারীদের জন্যও রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম সিঙ্গারি এলাকার আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে প্রায় একশো বছর আগে এলাকার বাসিন্দারা ঐতিহ্যবাহী দুবরি বিলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সড়ক নির্মাণে জমি দিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই রাস্তা এলাকার মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে। তবে দীর্ঘ বছর ধরে সরকারি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাস্তাটির অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে।

সম্প্রতি একটি বহুজাতিক সংস্থা রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার পরই কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ। এমনকি নির্মীয়মাণ রাস্তার অংশ জেসিবি দিয়ে উপড়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় এবার সরব হয়েছেন স্থানীয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকরা। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে শতবর্ষের পুরনো জনপথের সংস্কার বাধাগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের উপর। তাই সামাজিক স্বার্থে রাস্তা সংস্কারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় রাস্তা সংস্কারে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন স্থানীয় জমির মালিক ও বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এর সঙ্গে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের স্বার্থ জড়িত। তাই জনস্বার্থে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেবাশীষ সিনহা, রাধারমন সিনহা, হিরেন্দ্র কুমার সিনহা, বর্ধমানের লাল সিনহা, বাবুতন সিনহা, রাজেন্দ্র সিনহা প্রমুখ।
স্থানীয়দের বক্তব্য, শতবর্ষের পুরনো এই জনপথকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হোক। কিন্তু বৃহত্তর জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার সংস্কার যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়—এটাই এখন তাঁদের প্রধান দাবি।


