🎙️ শিলচর পৌরনিগম নির্বাচন ২০২৬ :: ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় সমাজকর্মী সাহেলি দেব
DILU DAS, JUBO DARPAN DIGITAL, 03-08-2026 ::
শিলচর পৌরনিগম নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডেও রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে যে কয়েকটি নাম নিয়ে চর্চা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম সমাজকর্মী এবং বিজেপি নিউ শিলচর মণ্ডল মহিলা মোর্চার সভানেত্রী শ্রীমতি সাহেলি দেব।
দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন তিনি। তবে তাঁর পরিচয় শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়—একজন সমাজকর্মী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
সাহেলি দেবের ব্যক্তিগত জীবনের দিকে তাকালেও তাঁর সাধারণ জীবনযাপন ও মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার স্বভাবটি বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
তিনি হলি ক্রস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং জি.সি. কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
তিনি খুবই সাধারণ মনের, মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে খুব সহজেই মিশে যেতে পারেন তিনি।

আর একজন জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে এই সহজ-সরল মানসিকতা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ পৌর নিগমের কাউন্সিলর হওয়া মানে শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়া নয়। পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত থাকা।
রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, পরিচ্ছন্নতা, আলো, নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে এলাকার ছোট-বড় নানা সমস্যা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয় একজন কাউন্সিলরকে।
এই জায়গাতেই সাহেলি দেবের দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা আলোচনায় আসছে।
করোনা মহামারির কঠিন সময় হোক কিংবা ভয়াবহ বন্যা—দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

তাঁর সমর্থকদের মতে, এই সামাজিক কাজগুলো কোনো নির্বাচনী সময়ের হঠাৎ তৎপরতা নয়। বরং গত কয়েক বছর ধরে নিজের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পুরুষ ও মহিলা সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
একজন মহিলা হিসেবে পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগঠন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
৩৮ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত নয়। ফলে এখানে পুরুষ ও মহিলা উভয়েই প্রার্থী হতে পারেন।
তবুও একজন মহিলা সমাজকর্মী হিসেবে সাহেলি দেবের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—নেতৃত্ব শুধু পুরুষ বা মহিলা হওয়ার ওপর নির্ভর করে না।
নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা হলো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, মানুষের কথা শোনার মানসিকতা, সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা, সমস্যা বোঝার ক্ষমতা এবং সেই সমস্যার সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা।
সাহেলি দেবের ক্ষেত্রে তাঁর সাধারণ জীবনযাপন, মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার স্বভাব এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড—এই বিষয়গুলোই তাঁকে অন্যভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

নির্বাচনের সময় অনেকেই মানুষের কাছে আসেন। কিন্তু মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সারা বছর সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা—দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
আর সেই পার্থক্যই একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির জনভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় পরিচয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, শিক্ষাগত ভিত্তি, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর ভাবনা।
একজন কাউন্সিলরকে শুধু নিজের দলের মানুষের নয়, ওয়ার্ডের প্রত্যেক মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে হয়।
তাই আগামী পৌরনিগম নির্বাচনে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা কোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেন, সেটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সাহেলি দেবের নাম বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার ব্যক্তিত্ব তাঁকে একটি আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই সামাজিক পরিচয় ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা কি এবার তাঁকে পৌরনিগমের নির্বাচনী রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসবে?
দলীয় সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটিও দেখার বিষয়।
আর শেষ কথা বলবেন ভোটাররা।
কারণ একটি পৌর নির্বাচনে পোস্টার, ব্যানার কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে একজন প্রার্থীর বাস্তব সম্পর্ক।
যে মানুষকে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা যায়, যে মানুষের কথা শুনতে পারেন এবং যিনি এলাকার সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে দেখার চেষ্টা করেন—তাঁর কাছেই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়।
শিলচর পৌর নিগম নির্বাচন ২০২৬-এর আগে তাই ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে সাহেলি দেবের নামকে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, আগামী দিনে সেই আলোচনা কোন দিকে যায়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।

