বহিরাগত বনাম স্থানীয় :: ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী বাছাই ঘিরে বাড়ছে চর্চা
স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে প্রার্থীপদের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ালেন তীর্থঙ্কর দেবরায় (পাপ্পু)
দিলু দাস, শিলচর, ৬ সেপ্টেম্বর:
আসন্ন শিলচর পৌর নিগম নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বিশেষ করে ‘বহিরাগত বনাম স্থানীয়’ ইস্যুটি এখন প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
জানা গেছে, নিজেদের ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় কয়েকজন বিজেপি নেতা অন্য ওয়ার্ড থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের স্থানীয় কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য—যে ওয়ার্ডে বছরের পর বছর ধরে দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় কর্মীরা কাজ করে আসছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তাঁদের মতামত ও দাবিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ৪০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপির প্রার্থীপদের দাবিদার তীর্থঙ্কর দেবরায় (পাপ্পু) স্বেচ্ছায় নিজের দাবি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় ভোটার, দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তীর্থঙ্কর দেবরায় বলেন, দলের প্রতি নিষ্ঠা, কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংগঠনের স্বার্থই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে। ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে দলীয় ঐক্য ও স্থানীয় কর্মীদের আবেগকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
তিনি আরও জানান, ৪০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দল যাঁকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে, তাঁর প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। অর্থাৎ প্রার্থীপদের দাবি থেকে সরে দাঁড়ালেও দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়, বরং সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থেই তাঁর অবস্থান।
৪০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমানে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—দল কি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করে আসা স্থানীয় কোনও মুখকে প্রাধান্য দেবে, নাকি অন্য ওয়ার্ড থেকে আসা কোনও প্রার্থীর ওপর আস্থা রাখবে ? এই প্রশ্নকে ঘিরেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
তীর্থঙ্কর দেবরায়ের এই সিদ্ধান্ত ‘স্থানীয়দের দাবি’র প্রতি সম্মান হিসেবে দেখছেন তাঁর সমর্থকদের একাংশ। তাঁদের মতে, নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতীকের লড়াই নয়; একজন প্রার্থীকে এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে ধারণা এবং কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্কও ধরে রাখতে হয়।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের নেতৃত্বের হাতেই। ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির টিকিট শেষ পর্যন্ত কার হাতে যায় এবং ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত’ বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

